
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৭৩ হাজার টাকার ওষুধের অনিয়ম ও গর-মিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়মের সুষ্ঠু-তদন্ত ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্ত-মূলক শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিএমও) ডা. শামছুর রহমানকে তাঁর নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর কিপার) নূর-এ-কামালকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা যায়, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) কোনো পূর্ব-ঘোষণা ছাড়াই উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও ওষুধ ক্রয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের স্টক বা মজুত যাচাই করা হয়। ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোঃ সালেকুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোঃ ফখরুল ইসলাম ও জাকসুর খাদ্য ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক যৌথ-ভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান কালে স্টোরে গচ্ছিত ওষুধের পরিমাণের সাথে মূল রেজিস্টারের হিসাব মিলিয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। হিসাব অনুযায়ী, মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে ৯ প্রকারের ওষুধের মধ্যে ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল পাওয়া গেছে, যার আনুমানিক বাজার-মূল্য ৭৩ হাজার ১০১ টাকা।
বৃহস্পতি বার দুপুরে ঘটনাটি জন-সমক্ষে এলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে সিএমও ডা. শামছুর রহমানকে অবরুদ্ধ করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই জাবি চিকিৎসা কেন্দ্রে ওষুধ গায়েব ও চরম অব্যবস্থাপনা চলে আসছে। স্টোর কিপার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অনিয়মের কোনো গ্রহণ-যোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি।
শিক্ষার্থীরা তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি বেশ কিছু জরুরি সংস্কারের দাবি জানান। তাঁদের মূল দাবি-গুলো হলো, দুর্নীতির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ করা। বিশ হাজার শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য-সেবায় পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করা। প্যাথলজি বিভাগের আধুনিকায়ন-সহ চিকিৎসা কেন্দ্রের সার্বিক অব-কাঠামোগত উন্নয়ন করা।
শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, এই সময়ের মধ্যে তাঁদের দাবি পূরণ ও সু-নির্দিষ্ট আশ্বাস না পেলে পুরো মেডিকেল সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে চিকিৎসা সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ ঘটনার সার্বিক পরিস্থতি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ.কে.এম. রাশিদুল আলম বলেন, মেডিকেল সেন্টারের অনিয়মের ঘটনা খতিয়ে দেখতে ইতো-মধ্যে একটি উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ কার্য-দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ওষুধের হিসাবে গর-মিলের প্রাথমিক দায়ে স্টোর কিপার নূর-এ-কামালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মূল দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবং শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।