
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাতুব্বরকে হত্যার হুমকি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জনি মাতুব্বর নামে এক যুবককে মাদক-সহ গ্রেপ্তার করে সালথা থানা পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে মাদক-দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগ-কারী সোহেল মাতুব্বরের দাবি, মাঝারদিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের অভিযোগ ছিল। বিষয়টি তিনি পুলিশকে অবহিত করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে জনি মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে। এর পরপরই জনির মা জেসমিন বেগম বুধবার রাতে মাঝারদিয়া বাজারে নাজমুলের দোকানের সামনে প্রকাশ্যে তাকে হত্যার হুমকি দেন এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোহেল মাতুব্বর বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে যদি আমার জীবনও দিতে হয়, তবুও আমি পিছিয়ে যাব না। মাদকমুক্ত মাঝারদিয়া গড়ে তুলতে এবং নতুন প্রজন্মকে এই ভয়াবহ অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে আমি শেষ পর্যন্ত কাজ করে যাব।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রিয় নেত্রী শামা ওবায়েদের ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি আমরা পূর্ণ সমর্থন জানাই। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী সালথা উপজেলা ছাত্রদল মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করছে। মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদকমুক্ত সালথা গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তিনি জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমানকে অবহিত করা হয়েছে। ওসির পরামর্শ অনুযায়ী নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি সাধারণ ডায়েরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার দাবি, মাঝারদিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, মা-ছেলে মিলে ওই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এমন আলোচনা এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত জনি মাতুব্বর বা জেসমিন বেগমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান বলেন, “মাদক-সহ জনি মাতুব্বরকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন মাঝারদিয়া বাজারে স্থানীয় ছাত্র ও যুবসমাজের উদ্যোগে একটি মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্ম-সূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন সোহেল মাতুব্বর। এরপর থেকেই এলাকায় মাদক নির্মূলে সচেতনতা ও প্রতিরোধ-মূলক কার্যক্রম জোরদার হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।