
ঢাকার দোহার উপজেলার আন্তা বাগেরকাচা এলাকায় মলি আক্তার লাভলী(২৮)নামে এক নারীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, চাচা আব্দুল্লার নলকূপের পাশে আহত অবস্থায় মলিকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসক বিল্লালের ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে মলির অবস্থা গুরুতর দেখে তিনি দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন, এরপর মলির বাবা মলিকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নিহত মলি গত দেড় মাসে আগে কুয়েত থেকে ছুটিতে দেশে আসে। সে আন্তা বাগেরকাচা এলাকার বাদশা বাবুর্চির মেয়ে। মলি কুয়েতে বাসা বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
মলির বাবা বাদশা জানায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মলি আক্তারের সাথে নোয়াখালীর ঈসমাইল নামে এক ছেলে সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে, এরপর প্রায় ৭ বছর আগে দুজনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মলি বাবার বাড়িতেই বসবাস করত এবং তার স্বামী মাঝে মাঝে বেড়াতে আসত। ওই ঘরে ইয়াছিন নামে ৫ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
বিয়ের অনেকদিন পর মলি তার সন্তার বাবার বাড়িতে রেখে স্বামীর বাড়ি নোয়াখালি গিয়ে দেখতে পায় সেখানে তার স্বামীর আগের একজন স্ত্রী এবং তিন-জন সন্তান আছে, মলি সেখানে কিছুদিন অবস্থান করে বাবার বাড়িতে ফিরে এসে তার স্বামী ঈসমাইলকে তালাক-নামা পাঠায় এবং প্রায় এক বছর আগে তাদের দুজনের তালাক হয়। তালাকের পরে মলিকে তার সন্তান ইয়াছিনকে বাবা মায়ের নিকট রেখে চাকুরী নিয়ে মধ্য-প্রাচ্যের দেশ কুয়েতে যায়।
মলির বাবা আরো জানায়, তালাকের পর মলির স্বামী ফোনে তাকে এবং তার মেয়ে মলিকে নানান রকমের হুমকী ধমকী দিত এমনকি মলিকে হত্যা করার ও হুমকী দিয়েছিল। তিনি আরোও জানান, তালাকের প্রায় তিন মাস পর মলির স্বামী টাকা পাবে বলে তাকে ফোনে জানায় এবং তা পরিশোধ করতে তাগাদা দেয়। এরপর, শিলাকোঠা গ্রামের বারেক মেম্বারের ছেলে বাবুলকে মুরব্বী বানিয়ে টাকা আদায়ের জন্য শালিস বিচার করে।
মলির মা রেহেনা আক্তার জানায়, এক বছর আগে মলির সঙ্গে ঈসমাইলের বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার ৩ মাস পর ওই ছেলে আমার মেয়ের কাছ টাকা পাবে বলে সালিশি বসায়। সালিশ মীমাংসার পরও টাকার জন্য চাপ দিত। কিন্তু কারা আমার মেয়েকে হত্যা করল তা নিশ্চিত নই।
লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু-বকর সিদ্দিক জানায়, সুরতহাল রিপোর্টের পর লাশ ময়না-তদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনা-স্থল থেকে একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে এবং মলির মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের পর আসামিকে শনাক্ত করতে পারব।