
ঢাকা সাভার আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানার ভেতর থেকে হাবিবুল্লাহ (৪০) নামে এক শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার সকালে ‘গিল্ডেন জিএবি’ নামের ওই কারখানার ভেতরে মরদেহ টি পাওয়া যায়। তবে মৃত্যুর ধরন নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে তীব্র রহস্য ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। নিহত হাবিবুল্লাহ নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার খেরকাঠি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ওই কারখানায় ‘সুইং লোডার’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (০৯ মার্চ) সকালে নিরাপত্তা-রক্ষীরা ডিউটিতে গিয়ে কারখানার সিঁড়ি ও লিফটের মধ্যবর্তী স্থানে কাপড় দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় হাবিবুল্লাহর দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনা-স্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
কারখানার সিকিউরিটি ইনচার্জ মজিবর রহমান বলেন, সকালে আমরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানাই। কারখানাটি কয়েকদিন ধরে বন্ধ ছিল।
ঘটনা-স্থলে উপস্থিত সাধারণ শ্রমিকরা এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ। শ্রমিকদের দাবি, মরদেহটি যে অবস্থায় পাওয়া গেছে তা বেশ সন্দেহজনক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, মরদেহটি যখন উদ্ধার করা হয়, তখন তার হাঁটু গেড়ে পা মাটিতে লাগানো ছিল। সাধারণত আত্মহত্যার ক্ষেত্রে দেহ পুরোপুরি ঝুলে থাকার কথা। কারখানাটিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকা সত্ত্বেও বন্ধ কারখানায় কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাসিমা নামের এক শ্রমিক। তিনি বলেন, বন্ধ কারখানায় এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। এখানে সবসময় সিকিউরিটি থাকে, সিসিটিভি আছে। সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার বলেন ওই শ্রমিক।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি রহস্যজনক মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারখানার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।