
ঢাকার সন্নিকটে সাভার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এখানে রয়েছে ছোট-বড় সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্ত-শাসিত বহু গুরুত্বপূর্ণ অফিস-আদালত, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাতীয় যুব উন্নয়ন কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় গো- প্রজনন কেন্দ্র, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন কেন্দ্র (বিপিএটিসি), দেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি ডিইপিজেডের মতো গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি-সহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
সাভারের বিভিন্ন সরকারি অফিসে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতির ওপর পরিচালিত দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের এক অনুসন্ধানে মিশ্র চিত্র পাওয়া গেছে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে সকালের শুরুতে কিছুটা ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে উপস্থিতির হার স্বাভাবিক হতে দেখা যায়।
সরেজমিনে সাভার উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিস এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘুরে দেখা যায়, সাভার উপজেলা পরিষদ অফিসে সকাল ৯টায় অফিসের সময় শুরু হলেও অনেক টেবিলে কর্মচারীদের ৯টা ২০ বা ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে আসতে দেখা গেছে। এখানে নিম্ন-পদস্থ কর্মচারীদের বড় একটা অংশ সময়মতো উপস্থিত থাকলেও উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা বিলম্বে অফিসে আসার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
সাভার ভূমি অফিসে সেবা-গ্রহীতাদের ভিড় একটু বেশি থাকায় এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি তুলনা-মূলক সন্তোষ-জনক। তবে কিছু কিছু কক্ষে আসন শূন্য দেখা গেছে, যার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা ‘ফিল্ড ভিজিট’ বা ‘অফিশিয়াল কাজে বাইরে থাকা’কে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন।
অফিসে সময়মতো লোক না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আমিনবাজার থেকে আসা মুক্তার আলী নামের এক সেবাগ্রহীতা জানান, আমি সকাল সাড়ে ৯টায় এসেছি, কিন্তু যার কাছে ফাইল জমা দেব তাকে ১০টার আগে খুঁজে পাইনি। অনেকের অভিযোগ, ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অনেক কর্মচারী হাজিরা দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে বাইরে চলে যান বা অফিসের ক্যান্টিনে সময় কাটান।
সাভার পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড থেকে মোঃ জসিম উদ্দিন নামের একজন ভূমি অফিসে আসা সেবাগ্রহীতার ভাষ্যমতে, সকালে এসে কর্মকর্তাদের পাওয়া গেছে, তবে ২টা -২.৩০টার পর কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। সবাই দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।
এদিকে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯:০০টা থেকে বিকাল ৩:৩০টা পর্যন্ত (দুপুর ১:১৫ থেকে ১:৩০ পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতিসহ)। সাভার উপজেলা পরিষদ, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলো এই সময়সূচির অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জরুরি সেবার সাথে জড়িত অফিসগুলোতে উপস্থিতির হার তুলনামূলক সন্তোষজনক ও কড়া নজরদারির মধ্যে থাকতে দেখা গেছে।
সাভার-নবীনগর মহাসড়কের যানজট সময়মতো অফিসে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া রমজানে অফিসের সময় কমে আসায় অল্প সময়ে বেশি সেবা দেওয়ার চাপে কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সর্বোপরি বলা যায় যে, সাভার উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সময়ানুবর্তিতার অভাব কিছুটা ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করে দায়িত্ব পালনে আরও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন।