
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে মাঠে এখন চলছে আবাদি আলু জমির পরিচর্যার কাজ। আলুর ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকরা জমিতে নিয়মিত পানি সেচ দিচ্ছেন, মালচিং পদ্ধতিতে বোপণ করা আলু বীজের দুই সারির মাঝখানের ফাঁকা স্থানে শুকনো কচুরি, ঘাস ও খড়কুটো ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি জমির আগাছা পরিষ্কার, পরিমিত সার প্রয়োগ এবং পোকা-মাকড় দমনে বালাইনাশক ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে জমিতে রোপণ করা আলু উত্তোলন শুরু করবেন কৃষকরা। ভালো ফলনের আশায় গজিয়ে ওঠা আলুগাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কোথাও কৃষক ও শ্রমিকরা আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কোথাও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষায় আলুক্ষেতে কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে।
যেসব জমিতে চারা গজানোর গতি ধীর, সেখানে ইঞ্জিনচালিত মেশিনের মাধ্যমে পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে। এসব কাজ করতেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কৃষি শ্রমিকরা বর্তমানে সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ভাড়া বাসা নিয়ে পরিবার-পরিজনসহ বসবাস করছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ করে বালুচর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রোপণ করা আলু জমিতে কৃষক ও শ্রমিকরা পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। চারদিকে বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ চোখে পড়ছে।
সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের শুরুতে এ অঞ্চলে আলু বীজ রোপণ শুরু করা হয়। সম্ভাব্যভাবে ফেব্রুয়ারির শেষ কিংবা মার্চের শুরুতে আলু উত্তোলন করা হবে। সংরক্ষণকারীরা মার্চের মাঝামাঝি সময়ে আলু কোল্ডস্টোরেজে সংরক্ষণ করে থাকেন। প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না ঘটলে এ বছর এ অঞ্চলে আলুর ফলন গত বছরের তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত বছর সিরাজদিখানে ২ হাজার ৮৮৯ দশমিক শূন্য হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছিল। ওই জমি থেকে উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৪৮০ মেট্রিক টন আলু। তবে ভালো ফলন সত্ত্বেও বাজারে দরপতনের কারণে লোকসানের মুখে পড়েছিলেন আলু চাষিরা। সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে চলতি মৌসুমে কৃষকরা নতুন উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে আলু চাষে মনোযোগী হয়েছেন।
উপজেলার বয়রাগাদী, ইছাপুরা, বালুচর, রশুনিয়া ও মালখানগরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এক থেকে দেড় মাস বয়সী আলু জমিগুলোতে বর্তমানে নিড়ানি প্রক্রিয়া (আগাছা পরিষ্কার) ও সেচ কার্যক্রম চলছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বালাইনাশক ও সার প্রয়োগ করা হবে।
এ অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের আলু বীজ রোপণ করা হলেও ডায়মন্ড জাতের আলুর চাষই সবচেয়ে বেশি। সিরাজদিখানের কৃষকরা প্রায় ৯০ শতাংশ ডায়মন্ড ও বাক্স জাতের আলু চাষ করেন। বাকি ১০ শতাংশ জমিতে হল্যান্ডের ক্যারেস ও এস্টোরিস জাতের আলু বীজ রোপণ করা হয়ে থাকে।